৩১ অক্টোবর এর কথিত ‘হ্যালোইন’ অনুষ্ঠানের ইতিহাস

আজ ৩১ অক্টোবর, এ দিনে খ্রিস্টপ্রধান দেশগুলো কথিত ‘হ্যালোইন’ অনুষ্ঠান করে থাকে।

উ্ইকিপিডিয়া বলছে- হ্যালোইন” বা “হ্যালোউইন” শব্দটির উৎপত্তি ১৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে, যা খ্রিস্টীয় ধর্ম থেকে হয়েছে। আসলে এ হ্যালোইন দিবসটা হচ্ছে কুসংষ্কারাচ্ছন্ন খ্রিস্টানদের অলীক কল্পনার এক দিন। (https://goo.gl/vhUZL5)
তারা ধারণা করে-
এদিন মৃতের দেবতা সামান সব মৃত অ‍াত্মাদের পৃথিবীতে আহ্বান জানায়। এদিন উড়ন্ত ঝাড়ুতে করে হ্যালোইন ডাইনি সারা উড়ে বেড়ায় অ‍াকাশ জুড়ে। কখনওবা সবুজ খরখরে দেহের ডাইনি বুড়ি কড়া নাড়ে কোনো বাড়ির দরজায়। অনেকের মতে, এসময় সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যায় বিদেহী আত্মারাও।
(http://goo.gl/jKqeDS)

বলাবাহুল্য আমেরিকান এ সব কথিত দিবসকে পূজি করে তাদের অর্থনীতিকে উপরে তোলার চেষ্টা করেছে। এদিনটিকে তারা সরকারিভাবে ছুটির দিনে হিসেবে ঘোষণা করে, সবাই ভূত-প্রেতাত্মার মত করে সাজে, রাস্তাঘাট-বাড়িঘরে ভুতুরে পরিবেশ তৈরী করে, ভুতের সিনেমা দেখে, সবাই সবাইকে কার্ড-গিফট দেয়। এ দিবস উপলক্ষে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয় আমেরিকায়। সত্যিই বলতে, তাদের তো তেমন ধর্মীয় অনুষ্ঠান নেই, তাই এ সকল বিকৃতরূচির বিষয়গুলোকে অনুষ্ঠান বানিয়ে সবাই আনন্দ-ফূর্তি করার চেষ্টা করে।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার সেই খ্রিষ্টিয় কুসংষ্কার অনুসরণে বাংলাদেশেও একটি গ্রুপ কয়েক বছর যাবত হ্যালোইন উৎসব চালু করার চেষ্টা করছে। ঢাকাস্থ যমুনা ফিউচার পার্কেও নাকি আজকে বড়সর করে হ্যালোইন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। (http://goo.gl/8GtNsH)
একটি কথা না বললেই নয়, আজকাল ধর্মপালন করলে, ধর্মীয় পোষাক পড়লে অনেকেই ব্যাকডেটেড, খ্যাত, গেয়ো, গোরামী, সেকেলে ইত্যাদি বলে উপহাস করে। এরা নিজেদের খুব আধুনিক বলে দাবি করে থাকে, আধুনিকতার উদাহরণ টানতে গিয়ে এরা প্রায়শঃই ইউরোপ-আমেরিকার উদাহরণ টেনে থাকে। বলে- “তোমরা এখনও ব্যাকডেটেড রয়ে গেলে, দেখনা ম্যারিকানরা কত এগিয়ে গেছে, কত উন্নত হয়েছে।”
অথচ কথিত হ্যালোইন দিবস পালন দ্বারা প্রতিয়মান হচ্ছে- আমেরিকানরা এই আধুনিক যুগে এসেও মধ্যযুগের কুসংষ্কার আকড়ে ধরে রেখেছে। এমনকি কুসংষ্কার পালনের জন্য একটি দিনকে উৎসবের মর্যাদাও সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
দেখা যাচ্ছে, যে সকল বাংলাদেশী এতদিন আমেরিকানদের আধুনিক বলে মুখে ফেনা তুলতো তারাই এখন আমেরিকানদের অনুকরণে, নিজ ধর্ম বিসর্জন দিয়ে খ্রিস্টানদের কুসংস্কারচ্ছন্ন দিবস ‘হ্যালোইন’ এ মেতে উঠেছে, ভুত প্রেত সাজছে।
আগে একটা কথা প্রচলিত ছিলো- পিকিং বা মস্কোতে বৃষ্টি হলে নাকি ঢাকায় বামপন্থীরা ছাতা ধরে। আর এখন দেখা যাচ্ছে, আমেরিকানরা ওয়াশিংটনে বসে ময়লা খেলে বাংলাদেশের অধুনা মার্কিন প্রেমীরা ঢাকায় বসে ময়লা খাওয়া শুরু করে, যার কোন ব্যতয় হয় না।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s