দীপন হত্যাকান্ড ও আমার গোয়েন্দাগিরি

সময় পাচ্ছি না, ভাবছি প্রকাশক দিপন হত্যাকাণ্ডের বিষয় নিয়ে একটু গোয়েন্দাগিরি করে লিখবো। এখন একটু সময় পেলাম তাই লিখতে বসলাম।

গত বেশ কয়েকদিন যাবত বাংলাদেশে কোন ঘটনা ঘটলেই, এরপরে ধারাবাহিকভাবে পর পর আরো তিনটি ঘটনা ঘটে-
১) নাস্তিক/অমুসলিমরা সবাই একযোগে মুসলমাদের ঘাড়ে দোষ দিতে থাকে।
২) আনসারুল্লাহ/আইএস নাম দিয়ে কেউ মেইল করে দায় স্বীকার করে।
৩) আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ঘটনার জন্য উদ্বেগ জানায়। এবং বাংলাদেশে কথিত সন্ত্রাসবাদের গন্ধ খোঁজা শুরু করে।
গোয়েন্দাবৃত্তির দৃষ্টিকোণ থেকে
(২) নং পয়েন্ট, মানে আনসারুল্লাহ দায় স্বীকার করে উড়ো মেইল প্রমাণ করে, একটি মহল কৌশলে মূল ঘটনাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে চাইছে। তার মানে মূল ঘটনা এদিকে নয় অন্যদিকে।
এরপর
(২) নং পয়েন্ট অর্থাৎ মেইল পাঠানোর পূর্বেই (১) নং ঘটনা ঘটে, অর্থাৎ মুসলিমদের দোষ দেওয়া হয় এবং
(২) নং মেইল পাঠানোর পরে যেহেতু (৩) নং অর্থাৎ সম্রাজ্যবাদীরা উদ্বেগ জানায় ও সন্ত্রাসবাদ খুজে, তাই বুঝতে হবে—-(১), (২), (৩) তিনটি ঘটনাই একই সমান্তরালে এবং তিনটির কেন্দ্র, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও স্বার্থ এক ও অভিন্ন।
আমার মনে হয়েছে- মূল ঘটনা যেভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে সত্যটা সেটা সে রকম নাও হতে পারে । বিশেষ করে আমি আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বক্তব্য শুনলাম। সে দাবি করছে সে জাগৃতির স্ট্যাফ। যাই হোক তার কথার সময় তার চোখ দেখে আমার নিশ্চিত মনে হচ্ছে, সে বোধহয় কিছু লুকানোর চেস্টা করছে (ভিডিওটি দেখতে পারেন-https://youtu.be/cAonlpM9z_4), কিন্তু কি লুকাচ্ছে সেটাই হলো কথা। আবার আলাউদ্দিনের কথার সাথে যে মার্কেট সভাপতি নাজুর কথায় মিল পাওয়া যাচ্ছে না সেটাও কিন্তু সাংবাদিকের চোখে ধরা পড়েছে। (খবরটি পড়ে দেখতে পারেন- http://goo.gl/pJy2UK)
এখানে একটি বিষয় মনে রাখবেন, জাগৃতিতে হামলা হয়েছে একটি মার্কেটের (আজিজ সুপার মার্কেট) ভেতর। একটা মার্কেটের ভেতর এত বড় ঘটনা ঘটলো আর কেউ জানলো না এটা খুবই অস্বাভাবিক। ভেতরের কেউ এ ঘটনায় জড়িত না থাকলে এটা করা কখনই সম্ভব নয়। আবার তার লাশটা ছিলো নামাজের সেজদার মত ভঙ্গিমায়। আপনি একটা মানুষকে কোপ দিয়ে মেরে ফেলবেন, কিন্তু তার লাশ থাকবে সেজদার ভঙ্গিমায় এটাও সম্ভব নয়, এমনও হতে পারে তাকে আগে কোন চেতনানাশক বা অন্য কোন উপায়ে অজ্ঞান করা হয় এবং এরপর হত্যা করা হয়। আর চেতনানাশক খাওয়ানোর কাজটি বাইরের লোক নয়, ভেতরের লোককেই করতে হবে।
এরপর যে বিষয়টি আমার খুব চোখে লেগেছে, তা হলো শুদ্ধশ্বরের কেউ নিহত হলো না কেন ? টুটুলের স্ত্রী Shamim Runa ফেসবুক থেকে জানতে পারলাম, খুনিরা নাকি এসেই বলেছিলো- ‘মুরতাদ টুটুলকে হত্যা করতে এসেছি’। যেহেতু তারা মুরতাদ টুটুলকে হত্যা করতে এসেছে, তাই তাদের সেটা শেষ করে যাওয়ার কথাই ছিলো। কিন্তু টুটুল আহত হওয়ার পর যে ছবিখানা তুলেছে (http://goo.gl/8XWKjH) সেটা দেখে মনে হচ্ছে না তাকে পুরোপুরি হত্যা করার জন্য আঘাত করা হয়েছে। অন্তত এ পর্যন্ত যতজন ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে, তাদেরকে কাউকে এভাবে আলতো আঘাত করা হয়নি। যেহেতু Shamim Runa ’র স্ট্যাটাস মোতাবেক তাকে হত্যা করাই উদ্দেশ্য ছিলো (https://goo.gl/bU0G3v), তাই পুরোপুরি হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পরই যাওয়ার কথা। কিন্তু সেটা করা হয়নি। তারমানে খুনিদের উদ্দেশ্য ছিলো দিপনকে হত্যা করা, কিন্তু টুটুলকে হত্যা নয়, আহত করা।
আবার ঘটনা ঘটার সাথে সাথে বাংলানিউজ সাংবাদিক যখন তাকে প্রশ্ন করলো- এটা জঙ্গী হামলা কিনা ? এমন উত্তরে তিনি বললেন- “অবশ্যই”, এই বলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন। (http://goo.gl/P4vigS)
আসলে টুকুল সজ্ঞানে অজ্ঞান হয়েছেন, নাকি প্রকৃত অজ্ঞান হয়েছে সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও এটা নিশ্চিত তিনি নিজেও আনসারুল্লাহ’র মেইলের মত চাচ্ছেন বিষয়টি জঙ্গি হামলা বলে গণ্য হোক।
কিন্তু কেন দিপনকে হত্যা করা হলো আর কেন টুটুলকে আহত করা হলো ?
এর উত্তর অনেক রকম হতে পারে। আমি ছোটকালে চাচা চৌধুরী নামে একটা কমিক পড়তাম। সেখানে এরকম একটা গল্প পড়েছিলাম-
একদিন চাচা চৌধুরী ৬০ লক্ষ টাকা নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলো। এমন সময় তাকে রাস্তায় ৫ জন ডাকাত ধরলো। ডাকাতরা চাচা চৌধুরীর কাছে ৬০ লক্ষ টাকা চাইলো। এমন সময় চাচা চৌধুরী ৫ জন ডাকাত থেকে ৪ জনকে আলাদা করে বললো- “দেখো, তোমরা যদি ৫ জন মিলে টাকাটা নাও তবে প্রত্যেকে ১২ লক্ষ করে টাকা পাবে, কিন্তু ৪ জন মিলে নিলে ১৫ লক্ষ করে পাবে। তোমরা কি বেশি টাকা পেতে চাও না?”
এ কথা শুনে ঐ ডাকাতরা বললো- ঠিক ঠিক। আমরা বেশি টাকা পেতে চাই।”
এই বলে ঐ ৪ ডাকাত মিলে তৎক্ষণাৎ গুলি করে তাদের সঙ্গীকে মেরে ফেললো।
এরপর চাচা চৌধুরী ৪ ডাকাতের মধ্যে ৩ ডাকাতকে আলাদা করে বললো- “দেখো, তোমরা তিন জন মিলে যদি টাকাটা নিতে তবে প্রত্যেকে ২০ লক্ষ করে পেতে, দেখো কি করা যায় ।”
এটা শুনে ঐ তিন ডাকাত মিলে তৎক্ষনাৎ তাদের চতুর্থ সঙ্গীকে গুলি করে মেরে ফেললো। এরপর একই উপায়ে তৃতীয় ডাকাতকেও মারা হলো। শেষে গিয়ে বাকি দুই ডাকাত প্রত্যেকে চাইলো পুরো টাকাটা নিতে এবং দুইজন দুইজনকে গুলি করে নিজেরাই মারা পড়লো। এরপর চাচা চৌধুরী তার পুরো টাকা নিয়েই বাড়ি ফিরতে পারলো।
আসলে টাকা আর অ্যাসাইলামের লোভে নাস্তিকরা এখন পাগল হয়ে গেছে। এতদিনের বন্ধুত্ব, এতদিনের ঘনিষ্টতা তাদের কাছে কিছু নয়। কে কাকে দমিয়ে অ্যাসাইলাম পাবে, ব্যাংকে কিছু ডলার পাবে এটা নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব চরমে, প্রায় তাদের ফেসবুকে এ বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কামড়াকামড়ি করতে দেখা যায়। এখন সেই কামড়াকামড়িটা যে অফলাইন জগতে নেই সেটা কে বলবে ??
হ্যা, সম্রাজ্যবাদীরা এ্যাসাইলাম দিবে, কিন্তু এরজন্য সম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থও তো দেখতে হবে। সম্রাজ্যবাদীরা চায় বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানিয়ে আক্রমন করতে। এখন নাস্তিকদের মধ্যে কেউ যদি চাচা চৌধুরীর গল্পের মত একজন অপরজনকে মেরে সেই উপলক্ষ্য তৈরী করে দেয় তবে সমস্যা কি ? হ্যা কেউ যেন সন্দেহ না করে, তবে না হয় একটু আহত হতে হলোই, আর আহত না হলে হাইলাইট হবে কিভাবে, আর হাইলাইট না হলে তো আর ভালো অ্যাসাইলাম পাওয়া যায় না, কষ্টটা সামান্য কিন্তু ভবিষ্যত উজ্জল।
সত্যিই বলতে নস্তিকদের এসব নাটক-ফাটক আর ভালো লাগে না। এক ঘটনা বার বার দেখতে দেখতে আমি বোর হয়ে গেছি। পারলে নতুন কিছু দেখাও…………..।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s