পূজায় শব্দদূষণে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ

পূজো মানেই শব্দদূষণ, প্রতিকার আছে কি ?

দুর্গাপুজো মানেই ঢাকের বাদ্যি, আর বাড়ি যদি হয় মণ্ডপ থেকে মাত্র কয়েক পা দূরে, তবে আর কথাই নেই। বাড়িটাও যেন কাপতে থাকে ঢাকের আওয়াজে।
ঢাকের সাথে চলতে থাকে কানফাটানো লাউডস্পিকার। ঢাকের শব্দ আর লাউড স্পিকারের দাপটে কান হয় ঝালাপালা, মাথা ধরে যায়, ঘুমের বাজে বারোটা। বৃদ্ধ, অসুস্থ, কিংবা শিশুদের অবস্থা হয় আরো করুণ।
উল্লেখ্য দূর্গা পূজা বা নবরাত্রীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ শব্দদূষণের বিরুদ্ধে ভারতের সাধারণ জনগণ ও পরিবেশবাদীরা সরব হয়েছে অনেক আগেই।
ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরগুলো দেখুন—–
১) পূজা উপলক্ষে শব্দ দূষণ, শব্দের মাত্র ১১০ ডেসিবেল !
খবর: http://goo.gl/rSjAer
২) পূজা উপলক্ষে ৯ রাত, ১০ দিন ১১৭ ডেসিবেল শব্দ ! (সূত্র http://goo.gl/ZvzQdT)
৩) পূজা উপলক্ষে শব্দদূষণ নিয়ে একটি গবেষণা রিপোর্ট: http://goo.gl/1rRIJz
ইতিমধ্যে মুম্বাই হাইকোর্ট থেকে রায় দেওয়া হয়েছে, পূজা উপলক্ষে শব্দ দূষণ করা মাত্রই যেন প্রাদেশিক সরকার তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় ।(সূত্র: http://goo.gl/ZzlYqU)
উল্লেখ্য বাংলাদেশেও কিন্তু ‘শব্দদূষণ’ সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। শব্দদূষণের ফলে বাংলাদেশে নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির প্রায় ১ কোটিরও বেশি লোক শব্দদূষণজনিত রোগে ভুগছে। শব্দদূষণের প্রতি হাজারে একজন বধির হয়ে জন্মায় এবং আরো একজন বধির হয়ে যায়। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণ একটি শিশুকে বেড়ে ওঠার আগেই বধির হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাকে করে তুলছে অমনোযোগী ও বিকারগ্রস্ত।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশেও এবার সাড়ে ২৮ হাজার পূজা মণ্ডপ নির্মিত হয়েছে। তাই সাড়ে ২৮ হাজার এলাকাই শব্দদূষণের ঝুকিতে রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে শব্দদূষণ নিয়ে স্পষ্ট আইন আছে।
বাংলাদেশের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা বলছে-
রাত/দিনের ভিন্নতা অনুসারে আবাসিক এলাকাগুলোতে শব্দের মাত্রা ৪০-৬০ ডেসিবেল এবং বানিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চলে ৬০-৭৫ ডেসিবেল রাখতে হবে।
এই বিধান লঙ্ঘন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোন ব্যক্তি নির্ধারিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি প্রথম অপরাধের জন্য অনধিক ১ মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য অনধিক ৬ মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। (বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ক্ষমতাবলে সরকার শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ প্রণয়ন করে)
এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, পূজোর সময় ঢাক, ব্যান্ডপার্টি ও সাউন্ডবক্সের প্রচণ্ড শব্দের কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণে ভুগছে বাংলাদেশেও। আর ২৮ হাজার পূজা মণ্ডপ এই শব্দদূষণ ঘটা কিন্তু স্বাভাবিক বিষয় নয়,বরং বড় ধরনের বিপর্যয়ের আভাস বটে। বাংলাদেশের সরকারের উচিত হবে ভারতের অনুরূপ পূজা উপলক্ষে শব্দদূষণ রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনগণের এ ভয়াবহ সংকট থেকে উদ্ধার করা।
তবে, ভারতে পূজায় সৃষ্ট শব্দদূষণে অতিষ্ট হয়ে সাধারণ জনগন নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে মিডিয়াতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে (আনন্দবাজারের খবর:http://goo.gl/XDlJPs) স্মার্টফোনের মাধ্যমে পূজার অসহনীয় শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিতে, এতে করে ঐ পূজা মণ্ডপের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। আমি মনে করি, এ উদ্যোগ অনুসরণ করে বাংলাদেশের মানুষও শব্দদূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে পারে।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s