বাংলাদেশে প্রকাশক দীপন হত্যাকান্ড ও সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র

একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলো-
দাদা গতকাল ঢাকায় একজন প্রকাশককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তিন জনকে আহত করা হয়েছে, এটা নিয়ে কিছু লিখলেন না ?

আমি তার উ্ত্তরে বলছি, সংবাদপত্র এবং জেলাভিত্তিক নিউজ পোর্টালগুলো খুলে দেখবেন, প্রতিদিন এ রকম অসংখ্য মানুষকে কুপিয়ে আহত-নিহত করা হচ্ছে, সবাইকে নিয়ে লিখতে গেলে তো প্রতিদিন শত শত স্ট্যাটাস লিখতে হবে। কোথাকার কে মারা গেছে, জখম হয়েছে এটা নিয়ে এত লাফালাফি করার কি হলো ?
তারপরও যদি কিছু শুনতে চান তবে বলবো-
ইহুদীরা আগেই মাস্টারপ্ল্যান করেছিলো তারা এক এক করে সমস্ত মুসলিমদেশগুলোতে আগ্রাসন চালাবে।
আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লেবানন, পাকিস্তান-এর পর সিরিয়ালে আছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রত্যেক আগ্রাসনের জন্য চাই একটি অজুহাত। যেমন আফগানিস্তানে আল কায়েদা আছে, ইরাকে মরনাস্ত্র আছে এরকম। এখন সেই অজুহাত তৈরীর প্রক্রিয়া চলছে। যেভাবেই হোক বাংলাদেশকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতেই হবে। তাই কোথাকার কোন ফুটপাতের লোক মারা গেছে, এই এক অজুহাতে পুরো দেশকে সন্ত্রাসবাদী বানানোর অপচেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। তবে এক্ষেত্রে মীর জাফরের ভূমিকা নিয়েছে বাংলাদেশ থেকে ‘তিন বেলা খানা আর পাকা পায়খানা’র লোভে ইউরোপ যাওয়া হাভাতে ব্লগাররা। এরা ঐদেশের টিভিগুলো/পত্রিকাগুলোতে গিয়ে পুরো দেশকে ফাসানোর জন্য বিভিন্ন মিথ্যা আর উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে, বলছে- “বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হয়ে গেছে (মানে আপনারা হামলা করুন)” (যেমন-https://goo.gl/22rQWS)। একজন বাংলাদেশীর মুখ দিয়ে যদি এ কথা বের করা যায়, তবে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার বাস্তবায়নকারীদের জন্য এর থেকে বড় অজুহাত আর কি হতে পারে ?
মানুষের ক্ষুধা যখন বেশি হয় তখন সে পাগল হয়ে যায়। বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দাগ্রস্ত ইসরাইল-আমেরিকা আর ভারতের অবস্থা হয়েছে সেরকম। মোসাদ, সিআইএস এবং র’ তিন গ্রুপই চাচ্ছে বাংলাদেশে দ্রুত বিছিন্ন কিছু স্যাবোটেজ ঘটিয়ে (১ জন বিদেশী হত্যা, ১ জন শিয়া হত্যা, ১ জন প্রকাশক হত্যা) বাংলাদেশকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ বলে প্রচার করা এবং সেই অজুহাতে লুটপাট করা।
অথচ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হচ্ছে আমেরিকা নিজেই। সে প্রতিদিন হাজার হাজার নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করে, তার নিজ দেশেই প্রতিদিন গোলাগুলি করে কয়েকশ’ লোক মারা যায়। আর ভারত কত বড় উন্মাদ সন্ত্রাসী সেটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘ফ্রিজে গরুর মাংশ রয়েছে’ ব্যস এতটুকু গুজব রটিয়ে সেখানে মানুষ হত্যা করা হয়। একজন এমপি পর্যন্ত বলে- মুসলিম মহিলাদের লাশ কবর থেকে তুলে ধর্ষণ করতে, সেই নির্দেশ শুনে হিন্দুরা মুসলিম নারীরা মারা গেলে তাদের লাশ কবর তুলে ধর্ষণও করা শুরু করে! বুঝুন এদের অবস্থা !
তবে গতকাল থেকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া/টিভি দেখে একটা জিনিস আমার পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে যেসব কথিত ব্লগার (এদের দু’কলম ভালো কিছু লেখার যোগ্যতা আছে কি না সন্দেহ, নাম দিয়েছে ব্লগার) বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে, এরা হচ্ছে এ যুগের মীর জাফর। এরা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিভিন্ন মিথ্যা বলে যেভাবে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। ভাবতে অবাক লাগে, এরা সব সময় নিজেদের মুক্তমনা, মুক্তচিন্তাবিদ, বিজ্ঞানমনষ্ক, মানবতাবাদী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক বলে দাবি করতো, কিন্তু আজ সামান্য দু’টাকার লোভে এরাই এখন দেশের সাথে বেঈমানী করছে, পুরো দেশকে স্বাধীনতাহীন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ছিঃ এসব বেঈমানের মুখে আমার থুথু ফেলতেও আমার ঘৃণা হয়।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s