বিএসএফ কতৃক বাংলাদেশে সীমান্ত হত্যাকান্ড

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সীমান্ত বলা হয়, ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত, আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত, ফিলিস্তিন-ইসরাইল সীমান্ত। অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে। আসলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিষয়টিকে মৃত্যু না বলে বলা উচিত হত্যাকাণ্ড। সেখানে বাংলাদেশীদের নির্বিচারে হত্যা করে ভারতীয় বিএসএফ। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের রেকর্ড অনুযায়ী ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১০৬৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে বিএসএফ। (http://goo.gl/2YhTHx,http://goo.gl/PbujMH,http://goo.gl/OPyw9ghttp://goo.gl/mZn4Mc)

ভারত যতই অজুহাত দাড় করাক- অমুক পাচার, তমুক পাচার, অনুপ্রবেশ কোন যুক্তি এখানে খাটবে না। কারণ প্রতিদিন বহু ভারতীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ ভারত বাংলাদেশে বিভিন্ন কাজে-অকাজে প্রবেশ করে, বিজিবিও চাইলে প্রতিদিন শত শত ভারতীয়কে গুলি করে হত্যা করতে পারে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন মানবিকতার, তাই সেটা সম্ভব নয়। তবে এত হিসেব নিকেষ কিছু নয়, মূল কারণ ভারত বাংলাদেশের উপর প্রভাব বিস্তার তথা দাদাগিরি দেখাতে চায়, এটা মানসিকভাবে সব সময় স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই বিএসএফ কর্তৃক নিয়মিত বাংলাদেশীদের খুন করা হয়।
বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যাকাণ্ড চলছে। গত সপ্তাহেও মনির নামক এক বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে। আসলে এ হত্যাকাণ্ডটা হয়ে গেছে খুব জেনারালাইজ, সপ্তাহে দু-চারটা বাংলাদেশী মরবে এটা এখন বেপার না। ফেলানী নিযে বাংলাদেশীরা খুব লম্ফ-ঝম্ফ করেছিলো, কিন্তু এখন আর তেমন ভাব উদয় হয় না, খবর দেখলেও এড়িয়ে যায়, পত্রিকার প্রথম-শেষ পাতায় এ হত্যাকাণ্ডের খবর যায়গা পায় না, ভেতর পাতায় ছোট এক কলামে যায়গা পায়। প্রতিদিন দুই-চার বাংলাদেশীকে মোদির বিএসএফ’র গুলি করে, পিটিয়ে, ধর্ষণ করে হত্যা করবে এটা তো উল্টো বাংলাদেশের জন্য চরম সৌভাগ্য !
কালকে অবশ্য অনেক বাংলাদেশীকে দেখলাম, এক হিন্দু মহিলার মৃত বাচ্চা প্রসব হয়েছে দেখে কেদে-কেটে বুক ভাসাচ্ছে, অথচ গত সপ্তাহে বিএসএফ কয়জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে তার খবর বলতে পারবে না সে । আসলে সবই দাদাদের সু-নজর কাড়ার কৌশল। আগে কবিতা ছিলো- “আমার সন্তান যেন থাকে দুধ ভাতে”, আর এখন বলতে হবে- “বাংলাদেশ যেন থাকে দাদাদের সু-নজরে”।
হে বাংলাদেশী দাদারা আসুন সবাই একসাথে গলা মিলিয়ে ঐ হিন্দু মায়ের মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য কান্না করি। আর অভিসম্পাত করি, ফেনীর ঐ সমস্ত মুসলিম লোকগুলোর প্রতি যারা আযান আর নামাজের সময় পটকা ফুটানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলো। আসুন সবাই একসাথে আওয়াজ তুলি পুরো গ্রাম শুদ্ধ মুসলমানকে যেন জেলে পুরানো হয় (এর মাধে তাদের ৮ জনকে জেলে পুরানো হয়েছে)। তবুও দাদাদের সু-দৃষ্টি চাই চাই।
আর হে হিন্দু জাতি, (হোক বাংলাদেশী কিংবা ভারতীয়), আমাদের টার্গেট আমাদের ঠিক রাখতে হবে। আসুন সবাই শ্রী চৈতন্যের ভাষায় বলি– “নির্যবন করো আজি সকল ভুবন।”
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s