মুসলমানদের আইডেনটিটি ক্রাইসিস

 

মুসলমানরা আজকাল কেমন জানি  ভুগছে। নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে ভয় পাচ্ছে। অথবা ইসলামী কোন কাজ প্রকাশ্যে করতে লজ্জা বোধ করছে।

এটা শুধু এক যায়গায় না, সমাজের টপ টু বটম একই অবস্থা। প্রকাশ্যে কেউ যদি কিছু করেও তবে মিডিয়া তার বিরুদ্ধে লেগে যায় খোচাখুচি করা শুরু করে। ব্যস পিছু হটে যায় ঐ মুসলিম।

এই যে কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসেছিলো। সে কিন্তু এসেই মন্দিরে প্রবেশ করে পূজো করেছিলো । কখনো দেখেছেন- মুসলিম কোন প্রধানমন্ত্রী কোন দেশে গেলে মসজিদ গিয়ে তারা যাত্রা শুরু করে ? কখনই না।
মোদি এসেই বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলো, তারা কেমন আছে, কিভাবে কি করছে, তার খবর নিয়েছিলো। কিন্তু বাংলাদেশসহ সব মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু অন্য দেশে গিয়ে ‘ঐ দেশের মুসলিমদের কি অবস্থা, তারা কেমন আছে ?’ এই খবর নেয় না।12063758_1617311725199315_5452342065010561527_n
মোদি বাংলাদেশে এসেই কপালে তিলক পড়েছিলো, হিন্দি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো, নিজেকে নিরামিষভোজী হিসেবে দাবি করেছিলো।
শেখ হাসিনা মোদির জন্য কষ্ট করে ১০১ প্রকার নিরামিষ রান্না করেছিলো। এখানে কিন্তু প্রথম আলো, চ্যানেল আই খবর করেনি যে- “মোদি বিশাল অন্যায় করে ফেলেছে, অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ফেলেছে, ধর্মীয় গোরামি করেছে”, ইত্যাদি ইত্যাদি। বরং অনেক মিডিয়া মোদির কর্মকাণ্ডের পক্ষে প্রশংসাসূচক বক্তব্য ছেপেছে।

বাংলাদেশের হাইকোর্টের অনেক বিচারপতিকে আছে যারা মসজিদে গেলে লুকিয়ে যায়, গাড়ি অনেক দূরে রেখে তারপর মসজিদে প্রবেশ করে। অথচ বর্তমানে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহা নিয়মিত প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে মন্দিরে যায়, মন্দির উদ্বোধন করে। এতে সেও কিছু মনে করে না, মিডিয়াও চুলকানি তৈরী করে না।

এবার ছবির প্রসঙ্গে আসি, উপরের ছবিটি ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম তার ফেইসবুক পেইজে দিয়েও সরিয়ে ফেলেছিলো। বলেছিলো- এই ছবির মাধ্যমে নাকি অনেকের (হিন্দুদের) ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে।
অপরদিকে, সৌম সরকার ও লিটন দাস কিন্তু প্রথম আলোর মত পত্রিকায় পূজার মডেল হয়েছে। ঢোল হাতে, মূর্তি পেছনে নিয়ে পোজ দিয়ে ছবি তুলেছে।
অথচ পূজাও কিন্তু মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়, কারণ ইসলাম ধর্ম মতে মূর্তি পূজা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সৌম-লিটন কিন্তু তার মুসলিম ভক্তদের কথা চিন্তা করে পূজার মডেল হতে দ্বিধাবোধ করেনি। অপরদিকে চ্যানেল আই’র জাহিদ নেওয়াজ খান এখানে কোন সমস্যা দেখেনি, চুলকানি দিয়ে পোস্ট লিখেনি- “অসাম্প্রদায়িক দেশে পূজার বিজ্ঞাপনে ক্রিকেটার ! মুসলিম ভক্তদের কথা চিন্তা করে না করলেই কি নয় ?”

আসলে ক্রাইসিসটা এক জায়গায় নয়, রাষ্ট্রীয় রূপ ধারণ করেছে। হিন্দুরা এখানে একত্র। গরু জবাই করলে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয়, তাই তারা ভারত জুড়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ করেছে, করলে ১৪ বছরের জেল দিচ্ছে। বাংলাদেশেও মন্দিরের সামনে গরু জবাই হচ্ছে বলে পুলিশ নিয়ে এসেছে।
অপরদিকে ‘মূর্তি পূজা’ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলেও বাংলাদেশের হিন্দুরা প্রকাশ্যে পূজা করছে। ৯৫% মুসলমানদের দেশে পূজার সময় মন্দির থেকে বেরিয়ে আসছে, রাস্তার মধ্যে ৩০ হাজার মণ্ডপ বানিয়ে সারা দেশ অচল করে দিচ্ছে, স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাস দখল করছে, অনেক মুসলিমকে পূজায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করাচ্ছে, চাদা তুলছে। এখানে কিন্তু কোন মুসলমানের সমস্যা হয়নি, কোন মিডিয়া চুলকানি সৃষ্টি করেনি, কারো ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত হানেনি। কেউ বলেনি- তোমরা প্রকাশ্যে পূজা করলে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয়, মন্দিরে গিয়ে পূজা করো, রাস্তায় নয়।

তাই পাঠককের কষ্ট লাগলেও আবার বলছি, নিশ্চয়ই মুসলিম হিসেবে আপনারা আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভুগছেন, নিজ ধর্ম নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন, নয়ত এ ধরনের আচরণগুলো তো আপনাদের দ্বারা করার কথা ছিলো না, মেনে নেওয়াও সম্ভব ছিলো না।

সবাইকে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s