আলিমুল্লাহ মিয়ানের IUBAT ভার্সিটিতে ইসলামী পোশাকে নিষেধাজ্ঞা

বাংলাভাষায় ‘ছোটলোক’ বলে একটা শব্দ প্রচলিত আছে।
এই ছোটলোক কিন্তু ‘বড়লোক’ বা ‘ধনী’র বিপরীত শব্দ নয়,
বরং ‘ছোটলোক’ শব্দ দ্বারা বোঝায় হীন তথা নীচু মন-মানুষিকতার লোককে।
আমার এক বন্ধু এক বাসায় ভাড়া থাকতে গিয়েছিলো। বন্ধুটি ঐ বাসার বাড়িওয়ালার নাম দিয়েছিলো ‘ছোটলোক’। কারণ ঐ বাড়িওয়ালা সারাদিন ঐ বন্ধুর বাসায় কান পেতে রাখতো, ‘টুক’ করে শব্দ হলেই এতে বলতো- ‘কি ব্যাপার এত শব্দ হয় কেন, বাসাবাড়ি ভেঙ্গে ফেলবা নাকি ?’ বন্ধুটি তার বাসায় নতুন ফার্নিচার আনাতে বাড়িওয়ালা বলে- “এত ফার্নিচার রাখা যাবে না, ফ্লোর ভেঙ্গে পড়তে পারে”।

আসলে আজকালকার সমাজে দুর্নীতিসহ নানাবিধ কারণে হঠাৎ আঙ্গুলফুলে কলাগাছ হওয়া লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই এই ছোটলোকের সংখ্যাও তর তর করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সত্যিই বলতে, বর্তমান প্রচলিত লেখাপড়া দিয়ে কিন্তু সেই ছোটলোকি দূর হয় না,বরং এই ছোটলোকরা যখন দু’চারটা পড়ালেখা করে, তখন সবাইকে মূর্খ ভাবা শুরু করে, একইভাবে সামান্য দু’চারটা টাকা কামাই করে সবাইকে ফকিরন্নি মনে করে। এমন ভাব দেখায় যেন সে যেটা বুঝে, বাকিরা মনে হয় কিছুই বুঝে না।12196077_716242531840257_6688937280643544018_n
যাই হোক মূল আলোচনায় আসি, বাংলাদেশে একটা প্রাইভেট ভার্সিটি আছে নাম IUBAT, ভার্সিটিটা বানাইছে আলিমুল্লাহ মিয়ান নামক এক লোক। এই মিয়ান সাহেব আবার নিজেই সেই ভার্সিটির ভিসি। আর তার পরিবারের সবাই নাকি ভার্সিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারী। ঘটনা হচ্ছে- মিয়ান সাহেব তার ভার্সিটিতে নিয়ম চালু করেছে- কেউ সেখানে ইসলামী পোষাক পড়ে ঢুকতে পারবে না, ছাত্র-ছাত্রী সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম। কেউ যদি পরে ঢুকে, তবে তাকে চরমভাবে হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে। ছাত্রদের পাঞ্চাবি সালোয়ারের ভেতর ইন করে ক্লাসে ঢুকানো হয়, ছাত্রীদের বোরকা জোর করে খুলে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে ছাত্ররা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন পর্যন্ত করছে (https://goo.gl/wehmaF)।
যাই হোক লেখা শুরু করেছিলাম ‘ছোটলোক’ নামক এক শব্দ দিয়ে, আর এখন চলে এসেছে ‘আলিমুল্লাহ মিয়ান’ নামক এক ব্যক্তির কার্যকলাপ দিয়ে। আসলে সমাজে মিয়ানদের মত ছোটলোক কিছু চরিত্র চিরজীবন থাকবেই। এরা সারা জীবন দুর্নীতি করে, এনজিও-ফেনজিও করে দু’চারটাকা কামিয়ে ভাববে- “মুই কি হনু রে”, এরপর একটা মুরগীর খোয়ার দিয়ে নিজের নামের আগে জুড়ে দেবে ‘ড.’ আর ‘ভিসি’। কিন্তু বিশিষ্ট ছোটলোক মিয়ান সাহেব জানেনই না, বিশ্বের তাবৎ বড় বড় ভার্সিটিতে ইসলামী পোষাকের উপর নিষেধাজ্ঞা নেই। যে যার পছন্দসই পোষাক পরে ক্লাস করতে পারে। বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ঢাকা মেডিকেলেও বহু ছেলে-মেয়ে দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবি-বোরকা পরে নিয়মিত ক্লাস করছে। বিশিষ্ট ছোটলোক মিয়ান সাহেবের যদি সেগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতেন তবে সহজেই বুঝতে পারতেন।
আসলে আমার কাছে ব্যাপারগুলো খুব হাস্যকর মনে হয়। মানুষ কি এমন জ্ঞান অর্জন করলে তার মনের মধ্যে ধারণা হয়- ধর্মীয় পোষাক পরিহিতরা সব মূর্খ, ধর্মীয় পোষাক মানে আনকালচার, খুলে ফেলো জোর করে।
একারণেই ফার্সী ভাষায় একটা প্রবাদ আছে, যার অর্থ এরকম –
“সমাজের নিচু শ্রেণীর লোকগুলো যখন উচু পদ যায়, তখন মানীলোকের মানহানী করে।” মিয়ান সাহবের মত ছোটলোকরা যখন সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ পদে যাবে, তখন সে সম্মানি লোকের মানহানী করবে, এটাই স্বাভাবিক।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s