সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ- এর গোপন কাজ

সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ- বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই জঙ্গি হামলার তথ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে। বিশ্ব গণমাধ্যম কোনো সন্দেহ ছাড়াই এই সাইটটির সবরাহকৃত তথ্য চোখ বন্ধ করে প্রকাশ করে। এটা এতোটাই নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে পরিণত হয়েছে। তার দেখাদেখি বাংলাদেশি গণমাধ্যমগুলোও কোনো যাচাই না করেই সাইটটিv তথ্য সত্য বলে প্রচার করে। সম্প্রতি দুই বিদেশি নাগরিক খুন হওয়ার ঘটনার পরপরই সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী আইএস এর দায় স্বীকার করার খবরটি প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই প্রচার করেছে। তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার পর এই সূত্রের নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। আসুন জেনে নিই এই ওয়েবসাইটের জন্ম ও সম্পর্ক বৃত্তান্ত। রিতা কাৎজ- মধ্য বয়সী এক নারী- সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এনটিটিজ বা সংক্ষেপে ‘সাইট’ সবাই চেনেন সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ নামে- এই প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলার হুমকি বিষয়ে নানা তথ্য সরবরাহই এর কাজ। প্রথমে সরকারি টাকায় চললেও এখন এরা বাণিজ্যিকভাবে এই গোয়েন্দা ব্যবসা করে।

রিতার জন্ম ১৯৬৩ সালে ইরাকের বসরা শহরে এক ধনাঢ্য ইহুদি ব্যবসায়ী পরিবারে। ১৯৬৮ সালে বাথ পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘ছয় দিনের যুদ্ধে’ তৎকালীন ইহুদিরা সন্দেহভাজন দলের মধ্যে পড়ে। ওই সরকারের ‍নিরাপত্তা প্রধান ছিলেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। সেসময় ইসরায়েলের পক্ষে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে অভিজাত ইহুদিদের আটক করা হয় তাদের মধ্যে রিতার বাবাও ছিলেন। তিনি আটক হওয়ার পর রিতাদের পরিবারকে বাগদাদে নিয়ে গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৬৯ সালে সামরিক আদালতে রিতার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আরো আট ইহুদি এবং পাঁচ অইহুদির সাথে তাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়া হয়। তখন রিতার বয়স ছয় বছর।
রিতার মা ওই বাড়ির প্রহরীকে মদ খাইয়ে মাতাল করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার সঙ্গে এক প্রভাবশালী ইরাকি জেনারেলের স্ত্রীর চেহারার মিল থাকায় তিনি সহজেই ইরান সীমান্ত হয়ে ইসরায়েলে পাড়ি জমান। তারা প্রথমে সেখানে বাত-ইয়াম নামে একটি ছোট্ট শহরে বসবাস করতে থাকেন। রিতা সেখানে হাইস্কুল এবং তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ও ইতিহাস বিষয়ে পড়া শেষ করে ইসরায়েল নিরাপত্তা বাহিনীতে (আইডিএফ) যোগ দেন। তিনি বিয়ে করেন এক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রকে। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে মায়ের সাথে টেক্সটাইল ব্যবসায় নামেন। রিতার দায়িত্ব ছিল কারখানায় উৎপাদিত কাপড় বিক্রি করা।
১৯৯৭ সালে রিতার স্বামী যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ এ একটি ফেলোশিপ পেলে তিনি স্বামীর সঙ্গে ওয়াশিংটনে চলে আসেন। তখন তাদের তিন সন্তান। পরে আরো একটি সন্তানের মা হন রিতা।
যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর রিতা শহরতলীর একটি গিফট শপের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু নয় মাস পরেই চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর ইনভেস্টিগেটিভ প্রজেক্ট নামে একটি প্রকল্পে আরবি বলতে পারা গবেষণা সহকারী চেয়ে বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে আবেদন করেন এবং চাকরি হয়ে যায়। স্টিভ এমারসন নামে এক সাবেক সাংবাদিক এই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। এদের কাজই ছিল ইসলামি সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ এবং তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া উদঘাটন করা। এতে তারা মুসলিমের বেশ নিয়ে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মিশে যেতেন। রিতা বোরখা পরে বিভিন্ন ইসলাম ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন। মাঝে মাঝে লোকজনের সাথে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে গিয়ে ইহুদি বিরোধী স্লোগান দিতেন। জঙ্গি চিন্তাভাবনা যারা করতেন তাদের উৎসাহ দিতেন, প্রয়োজনে অর্থ দিয়ে সহায়তা করতেন। রিতা তখন একজন কট্টর ইসলামপন্থি ইরাকি আমেরিকান ব্যবসায়ীর স্ত্রীর অভিনয় করতেন।
ইরাকে জন্ম হওয়ার কারণে ইরাকি আরবির বিভিন্ন উচ্চারণ ছিল তার আয়ত্তে আর এই ভাষাজ্ঞান রিতাকে নানাভাবে সহায়তা করেছে। ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর কানাডা সীমান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা আহমেদ রেসাম নামে এক আলজেরিয়ানের ব্যাপারে আগাম তথ্য দেয়ার পরই রিতারা মার্কিন সরকারের নজরে আসেন। ওই ব্যক্তি সুটকেসভর্তি বিস্ফোরক নিয়ে আসছিলেন। এটাই রিতার বিখ্যাত হওয়ার শুরু।
২০০২ সালের জুনে এমারসনের সঙ্গে বনিবোনা না হওয়াতে রিতা নিজেই জস ডেভন নামে আরেকজন সহকর্মীকে নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। নাম দেন সাইট ইনস্টিটিউট। পরে ডেভন তাকে ছেড়ে যান, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়। তখন সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান খোলেন রিতা। প্রথমে তার সম্বল কিছু সরকারি কর্মকর্তা আর ইনভেস্টিগেটিভ প্রজেক্টে কাজ করার সময় তৈরি করা সোর্স। এটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ শুরু করে।
রিতার তথ্য সংগ্রহের সূত্র হচ্ছে শত শত টেরোরিস্ট সাইট যেখানে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ভিডিও, তথ্য, বক্তব্য, বিবৃতি ও ছবি প্রকাশ করে। রিতা তার সহকর্মীদের কাজ কিছু পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড চ্যাট রুমে সার্বক্ষণিক বার্তা আদান প্রদান করা যেখানে জিহাদে যেতে ইচ্ছুক বা জিহাদের ময়দানে উপস্থিত লোকজন কথা বলে, হামলার ধরন, স্থান, বিস্ফোরক, আত্মঘাতি হামলার পোশাক, লক্ষ্যবস্তু ইত্যাদি নিয়ে কথা হয়- চ্যাটের সময় রিতা একজন মুসলিম হিসেবে তাদের সমর্থকের মতো আচরণ করেন।
সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপে এখন যে দু’জন জ্যেষ্ঠ পরামর্শক আছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন ব্রুস হাফম্যান। তিনি RAND Corporation এর কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড কাউন্টার ইনসারজেন্সি বিভাগের করপোরেট চেয়ারম্যান এবং RAND এর ওয়াশিংটন ডিসি কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক। RAND Corporation কে ইসরায়েলপন্থি আরব বিরোধী যুদ্ধে উসকানিদাতা সংগঠন হিসেবেই মনে করা হয়।
২০০৩ ও ২০০৪ সালে সাইট মার্কিন সরকারের আর্থিক সহায়তা পেত। এছাড়া ২০০০ সালের দিকে এফবিআইয়ের পরামর্শক হিসেবেও চুক্তিবদ্ধ ছিল তারা। তবে পরে সাইট আর অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকেনি। বর্তমানে তাদের অনেক হাইপ্রোফাইল গ্রাহক আছে যাদের কাছে ইমেইলে তথ্য সরবরাহ করে থাকে। বিতর্কিত বেসরকারি নিরাপত্তা ঠিকাদার কোম্পানি ব্ল্যাকওয়াটার ২০০৫ সালে বলেছিল, সাইট হচ্ছে অমূল্য সম্পদ।
রিতা নিজেও কট্টর ইসরায়েলপন্থি। নিজেকে জায়নবাদী বলে পরিচয় দিতেই পছন্দ করেন। তার ওয়েবসাইটটি বেশি আলোচনায় এসেছে মূলত ২০১৪ সালের মধ্য আগস্ট থেকে। ওই সময় ইরাকে আইসিস নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের আবির্ভাব ঘটে এবং সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ বেশ ক’টি এক্সক্লুসিভ ভিডিও প্রকাশ করে যেখানে কমপক্ষে দুই জন মার্কিন সাংবাদিকের শিরশ্ছেদের ভিডিও ছিল। কোনো গণমাধ্যমই তখন এইসব ভিডিওর ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেনি। কেউ প্রশ্ন তোলেনি একটা বেসরকারি কোম্পানি কি করে কোথা থেকে এসব ভয়ঙ্কর ভিডিও সংগ্রহ করে। সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ই বা কী? এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান সহযোগী গণমাধ্যম ফক্স নিউজ যাকে সবাই ইসরায়েলপন্থি এবং সরকারের চর বলেই জানে।
২০০৩ সালে রিতা ‘Terrorist Hunter: The Extraordinary Story of a Woman Who Went Undercover to Infiltrate the Radical Islamic Groups Operating in America’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। সেখানে নাম গোপন করে লেখেন ‘Anonymous’। সেই বইয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি জঙ্গি মুসলিমদের অনেক বৈঠকে পরিচয় গোপন করে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, একে তো জঙ্গিদের গোপন বৈঠক, তার ওপর মুসলিম জঙ্গিরা লিঙ্গ সংবেদনশীল- তাদের সাথে নারীদের দেখা যায় না, সেখানে রিতার পরিচয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়েই কীভাবে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলো!
এই প্রতিষ্ঠানটি জন্মের পর থেকেই এমন সব গোপন তথ্য দিয়ে আসছে যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রীতিমতো লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। তবে মাঝে মাঝেই এসব তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যেমন ২০০৭ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয় : একটি ছোট্ট গোয়েন্দা কোম্পানি যারা ইসলামি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো পর্যবেক্ষণ করে তারা ওসামা বিন লাদেনের একটি ভিডিও সংগ্রহ করেছে যা আল কায়েদা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের এক মাস আগেই সংগৃহিত। ২০০৭ এর সেপ্টেম্বর দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে শর্ত সাপেক্ষে ভিডিওটি দেয়া হয়। বলা হয় আল কায়েদা এ ভিডিও প্রকাশের আগে পর্যন্ত যেন গোপন রাখা হয়। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে বহু গোয়েন্দা সংস্থা ওই সাইট থেকে ভিডিওটি ডাউনলোড করে। ওই দিনই বিকেলে ভিডিও এবং অডিওর ট্রান্সক্রিপ্ট বুশ প্রশাসনের ভেতর থেকে ফাঁস হয়ে বিভিন্ন টিভি মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু পরে প্রমাণিত হয় যে ভিডিওটি ভুয়া!
সেই থেকে সাইটকে মানুষ সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করেছে। এটা কি কোনো প্রোপাগান্ডা সাইট যারা সারা বিশ্বে ইসলামি সন্ত্রাসীর ভীতি ছড়িয়ে দিতে চায়, যারা আরবদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে ইসরায়েলের স্বার্থ সুনিশ্চিত করতে চায়! সন্দেহ ঘণীভূত হয়েছে সিরিয়ায় আইএসের উত্থানের পর অতিরঞ্জিত কিছু ভিডিও প্রকাশের পর। সিরিয়াতে মার্কিন ও তার মিত্রদের হস্তক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে সাইট অনেক ভুয়া ভিডিও প্রকাশ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি জর্দানের এক পাইলটকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ভিডিও প্রকাশ করে সাইট। এই ঘটনার পরই জর্দান সিরিয়াতে আইএস বিরোধী যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়। এই অকারণ যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে খোদ জর্দানের সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ ছিল। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন সেই পাইলটের পরিবারের লোকজনও।
খবর অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বরে জর্দানের একটি বিমান সিরিয়ার রাক্কাতে বিধ্বস্ত হয়। কিন্তু পাইলট মুয়াজ আল কাসাবেহ বেঁচে গিয়ে আইসিসের হাতে ধরা পড়েন। পরের বছর ৩ জানুয়ারি তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। কিন্তু খবরটি সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পায় ঠিক এক মাস পরে। কিন্তু সাইট এবং জর্দান কর্তৃপক্ষ তখন দাবি করে, কাসাবেহকে এক মাস আগেই জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।
প্রশ্ন হলো- আইসিস যেখানে নিজেদের প্রচারণার জন্য এতোকিছু করছে সেখানে কাসাবেহর বিষয়টা এক মাস কেন গোপন রাখলো? এ প্রশ্ন কেউ করেনি, সাইটও তার ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।
একই বছরের সেপ্টেম্বরে দুই মার্কিন সাংবাদিক জেমন ফলি এবং স্টিভেন সোটলভকে শিরশ্ছেদ করার ভিডিও প্রকাশ করে সারা বিশ্বে হইচই ফেলে দেয় সাইট। কিন্তু এই ভিডিওর সত্যাসত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অবশ্য বরাবরের মতোই মূল ধারা কোনো গণমাধ্যই প্রশ্ন তোলেনি। লেখক বিল গার্ডনার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফে তো দাবিই করেন, এসব ভিডিও আসলে ক্যামেরার কারসাজি!
এরপর জাপানি সাংবাদিক কেনজি গোতো এবং হারুনা ইউকাওয়ার শিরশ্ছেদের ভিডিও নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
হুবহু একই স্থানে এবং বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ভিডিও ধারণ, ক্লোজ শটেও পাঁচবার চাকু চালানোর পরও গলা দিয়ে রক্ত পড়ার দৃশ্য দেখতে না পাওয়া, সাউন্ড কোয়ালিটিসহ ইত্যাদি ফরেনসিট বিশ্লেষণে সাইট বিতরিত তথাকথিত আইসিসের ভিডিওগুলো সত্য নয় বলেই প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়া কাসাবেহকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার বীভৎস ভিডিও প্রকাশের এক দিন আগেই আইএসের এক শীর্ষ নেতা বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইএস যোদ্ধাদের যেসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সেসব সংগঠনের প্রধান আবু বকর আল বাগদাদী বা মুখপাত্র মোহাম্মদ আল আদনানির অনুমিত নয়।
আরো অবাক করার বিষয় হলো- ওয়াশিংটনে বাদশাহ আব্দুল্লাহ এবং জর্দানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী নাসের জুদেহের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি সাক্ষাৎ করার কয়েক ঘণ্টা পরেই পাইলটকে পোড়ানোর ভিডিও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এখন প্রশ্ন ওঠে, সাইটের কল্যাণে পাওয়া ভয়ঙ্কর ভিডিওগুলো যদি আইএসের শীর্ষ নেতাদের দ্বারা অনুমোদিত না হয় তাহলে এসব ভিডিও তাদের কারা সরবরাহ করছে? এগুলোর ভিত্তি কী?
একইভাবে বাংলাদেশে ব্লগার হত্যা ও সম্প্রতি পরপর দুই বিদেশি হত্যার পর প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে আইএসের দায় স্বীকারের তথ্য পাওয়া গেছে সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপের সৌজন্যে। সর্বশেষ রংপুরে এক জাপানি নাগরিককে খুন করার দায় স্বীকার রিতা কাৎস তার টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সেটা লুফেও নিয়েছে।
তবে আইনশঙ্খলা বাহিনী বলছে, তারা এদেশে আইএসের তৎপরতার কোনো প্রমাণ পাননি। যদিও ময়মনসিংহে আইএসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার জনকে আটক করা হয়েছে। তার আগে আইএসের পক্ষে লিফলেট সাঁটানোর সময় এক কিশোরকে আটক করা হয়। অবশ্য এগুলো কোনোভাবেই আইএসের তৎপরতার প্রমাণ নয়। হতে পারে তারা কোনোভাবে মিসগাইডেড- এমনটিই মনে করছেন গোয়েন্দারা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ12301686_529179247248120_3130677325027610356_n.png হাসিনাও বলেছেন, আমাদের দেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই। শুধু আইএস কেন এখানে কোনো জঙ্গি সংগঠনেরও কার্যক্রম নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে সবকিছু বিবেচনায় রিতা কাৎজের পূর্ব পরিচয়ই বারবার ঘুরে ফিরে সামনে আসে। কারণ জীবনের একটা দীর্ঘ সময় তিনি ইসরায়েলে কাটিয়েছেন। ইসরায়েলের বিখ্যাত ডিভেন্স ফোর্সে চাকরি করেছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরাসরি হোয়াইট হাউস, এফবিআই, সিআইএ, বিচার বিভাগ, অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ তথা মার্কিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব বিভাগের সঙ্গে কাজ করেছেন। সেই সুবাদে সেসব জায়গায় অবাধ যাতায়াত এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা আছে। সর্বোপরি তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের চর বলেই প্রতিষ্ঠিত।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s