আমেরিকার বাংলাদেশ দখল করতে চাওয়ার কারণ

“আামেরিকা কেন বাংলাদেশের মত একটি গবীর রাষ্ট্রকে দখল করতে চায় ?”

এ প্রশ্ন শুধু আমার নয়, অনেকেরই। অনেকেই বলে- “ধূর, আমেরিকা বাংলাদেশে আসবে না, বাংলাদেশে এমন কি আছে, যেটার জন্য আমেরিকা কষ্ট করে বাংলাদেশ দখল করবে ?’’

সত্যি বলতে এ প্রশ্ন শুধু আমার নয়, অনেকেরই। এর ব্যাখ্যাও হয়ত অনেকে অনেকভাবে দেবে, কিন্তু আমি একটি ভিন্ন দৃষ্টি থেখে চিন্তা করেছি। আসুন মিলিয়ে দেখি—


আপনারা জানেন, ব্রিটিশরা পুরো ভারতবর্ষকে শাসন করেছিলো, কিন্তু সেই শাসন তারা শুরু করেছিলো কিন্তু এই বাংলার মাধ্যমে। অর্থাৎ বাংলাকে তারা যখন দখল করতে পারলো, তখন নিশ্চিত হলো- হ্যা পুরো ভারতকে এবার দখল করা সম্ভব হবে। পুরো ভারতবর্ষের মধ্যে যে ‘বাংলা’ অঞ্চলটি বিশেষ গুরুত্ববহন করে, তার প্রমাণ- ব্রিটিশ আমলে পুরো ভারত বর্ষের রাজধানী ছিলো এই ‘বাংলা’ই। অর্থাৎ এ ‘বাংলা’ অঞ্চলটি মধ্যে এমন কিছু আছে, যেটা অন্য কোথাও নেই।
12279062_148809678810571_5316354268436794617_n.jpg
অনেকে অনেক কিছুকে মূল্যবান বলে দাবি করতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু হচ্ছে দেশটির ‘মাটি’। বাংলাদেশে মাটি নিজেই একটা মূল্যবান বস্তু। এই দেশের যেকোন স্থানে, যেই ফসল বপন করা হোক, তর তর করে বেড়ে ওঠে। যেটা সারা পৃথিবীরতে হয় না বললেই চলে। বিষয়টি শুধু বেড়ে ওঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই মাটিতে যে খাদ্যদ্রব্যগুলো হয়, সেগুলোতে বিশেষ স্বাদ বহন করে, যেটা বাইরের কোন অঞ্চলে থাকে না। যেমন বাংলাদেশী পিয়াজ, ও ভারতীয় পিয়াজ। তুলনা করে দেখুন, কোনটার স্বাদ বেশি। শুধু পিয়াজ কেন ? বাংলাদেশে যত সুস্বাদু ফলমূল হয়, সারা বিশ্বের কোথাও এত মজাদার ও ভ্যারাইটিজ ফলমূল হয় না। বাংলাদেশে এত হিউজ পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন হয় যার সঠিক হিসেব বাংলাদেশীরা জানে না। তবে মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচার হয়, বাংলাদেশে খাদ্য বেশি পরিমাণ উৎপন্ন হয় না। বলাবাহুল্য এই প্রচার না চালালে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করাও সম্ভব না, আর খাদ্য আমদানি না করা গেলে সে অজুহাতে পয়সা মারাও সম্ভব না।
আমি জানি, বাংলাদেশীদের কাছে তার কৃষি সম্পদের কোন মূল্য নেই। সম্রাজ্যবাদীরা এমন একটি প্রচার চালিয়েছে যে- ‘যে যত বেশি শিল্পকারখানা ও প্রযুক্তিতে উন্নত, সেই তত বেশি উন্নত।’ আসলে সম্রাজ্যবাদীদের এ প্রচারনটা ভুল। কারণ শিল্পকারখানার লোহালক্কর আর প্রযু্ক্তি খেয়ে পেট ভরবে না, খাদ্যদ্রব্য খেয়ে পেট ভরাতে হবে । হতে পারে কিছু সময়ের জন্য শিল্পকারাখানা কিংবা প্রযুক্তির মূল্য বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু সেটা চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য চিরস্থায়ী। শিল্পকারখানা-প্রযুক্তি ছাড়া বাচা সম্ভব, কিন্তু খাদ্যদ্রব্য ছাড়া বাচা সম্ভব নয়। আগে কিন্তু বিনিময় প্রথা চালু ছিলো। সেখানে খাদ্যের বদলেই সবকিছু বিনিময় করা হতো।একটি বিষয় হয়ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জানে না, বাংলাদেশে এই খাদ্যের চাহিদা সারা বিশ্বে প্রচুর। বাংলাদেশ থেকে চোরাই পথে বহু বহু খাদ্যদ্রব্য বিদেশে পাচার হয়ে যায়। এর পেছনে শক্তিশালী গ্রুপগুলো জড়িত থাকে বলে, সাধারণ মানুষের জ্ঞান তার ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়।

উপরে যে কারণটি বললাম, সেটা আমেরিকা বাংলাদেশের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার যতগুলো কারণ আছে, তার মধ্যে অন্যতম। এখন বলতে পারেন- আচ্ছা, আমেরিকার কেন হটাৎ খাদ্যদ্রব্য সংকট হলো ? তাদের দেশেরই তো পর্যাপ্ত খাদ্য দ্রব্য জন্ম নিচ্ছে, তাহলে তারা বাংলাদেশের দিকে তাকাবে কেন ?

আপনারা যারা জানেন না, তাদের জন্য বলছি, আমেরিকায় গত কয়েক বছর যাবত প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমান বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব এতটা্ই বেশি যে- তাদের দেশের বেশিরভাগ ফসল গত কযেক বছর যাবত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে খরা, বন্যা, ঝড়, শিলাবৃষ্টি, টর্নেডো, পঙ্গপাল, তুষারপাত, বরফবৃষ্টি এগুলোর চরমপ্রভাবে দেশটির ফসল নষ্ট হওয়ার পরিমাণ মাথা নষ্ট হয়ে যাওয়ার মত। আসুন কিছু তথ্য এ সম্পর্কে জেনে নেই-

সাধারণত, আমেরিকায় কোন এলাকায় যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হয়, তখন দেশটির ইউএসডিএ (The U.S. Department of Agriculture) সেখানে ফসল নষ্টে জরুরী অবস্থা জারি করে।

১) চলতি বছর (২০১৫) বিভিন্ন দুর্যোগে বিভিন্ন সময় ফসল নষ্ট হওয়ায় ‘ইউএসডিএ’ ৪৬টি স্টেটে মোট ৩৮৬৫ বার কাউন্টিকে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট স্টেট ৫০টি এবং কাউন্টি সংখ্যা প্রায় ৩১৪৩টি। অর্থাৎ একটি কাউন্টির ফসল গড়ে প্রায় একের অধিক বার প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা নষ্ট হয়। চলতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো-অতিবৃষ্টি, বন্যা, শিলাবৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাস।
২) ২০১৪ সালেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানীর কারণে ২৯০৪ বার কাউন্টিতে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করা হয়েছিলো। সে বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো মধ্যে অন্যতম ছিলো খরা। (সূত্র: https://goo.gl/NsN17X)

অর্থাৎ ফসলহানীর কারণে আমেরিকায় বড় ধরনের খাদ্য সংকট খুবই সন্নিকটে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, কিছুদিন আগেই একটি গবেষণায় আমেরিকান ও ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা বিষয়টি প্রকাশ করে। কিন্তু ধূর্ত মার্কিনীরা রিপোর্টটি এমনভাবে প্রকাশ করে যেন – সে হচ্ছে বড় ভাই, তার কথা শুনলে সবাই সেই খাদ্য সংকট থেকে দূরে থাকতে পারবে (রিপোর্টগুলো পড়ুন- https://goo.gl/qyCS6x, http://goo.gl/Uo821r)

মনে রাখবেন, মুসলামনরা খবর না রাখলেও ইহুদীরা কিন্তু সব কিছু হিসেব করে চলে। আগামী সময়টা কিভাবে আসছে এবং কেমন হতে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে জেনেই তারা বিশ্বের পদক্ষেপগুলো নিবে। যেহেতু মুসলমানরা এগুলো নিয়ে পড়ালেখা করে না এবং গবেষনা করে না, তাই আগামী বিশ্ব পরিস্থিতি কেমন হবে সেটা নিয়ে তাদের কোন ধারনাই নেই। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার দরকার আছে । তবে এতটুকু ধারণা করতে পারি- খুব শীঘ্র বাংলাদেশ হবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি আলোচিত দেশ। এর কারণ হতে পারে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক খাদ্যসঙ্কট কিংবা দুর্ভিক্ষ। কিন্তু তখন বাংলাদেশের কাছে থাকবে পর্যাপ্ত খাদ্যদ্রব্য। বিষয়টি শুনতে স্বপ্নের মত মনে হলেও ভবিষ্যতটা হয়ত সেদিকেই যাচ্ছে। আর সে কারনেই হয়ত বাংলাদেশের দিকে শক্ত চোখ দিয়েছে আমেরিকা।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s