কথিত সুপারপাওয়ারদের থিউরীতে মুসলমানদের দাসত্ব স্বীকার করার কারণ !

বর্তমান সময়ে দাসত্ব মানে চিন্তার দাসত্ব ।
মানে কথিত সুপার পাউয়ার আপ্নাকে চিন্তা-চেতনায় দাস বানিয়ে রাখবে।
তারা যেভাবে চিন্তা করতে বলবে, আপনি সেভাবেই চিন্তা করবেন,
তারা যেভাবে পরিকল্পনা করতে বলবে, আপনি সেভাবেই পরিকল্পনা করবেন
তারা যেভাবে স্বপ্ন দেখতে বলবে আপনি সেখাবেই স্বপ্ন দেখবেন। 
আপনার নিজস্ব কোন চিন্তা-চেতনা থাকবে না, নিজস্ব কোন ভাবনা থাকবে না।

বর্তমান কথিত শিক্ষিত শ্রেনীটা হচ্ছে সুপারপাউয়ারদের সেই চিন্তার দাস। আর এ কারণেই সম্রাজ্যবাদীরা আমাদের উপর কর্তৃত্বশীল। আপনি সেই চিন্তা থেকে বের হয়ে আসুন, দেখবেন, আপনার পরাধীনতার শিকলও ছিড়ে যাবে, আর আমেরিকাও সুপারপাউয়ার থাকতে পারবে না।
তবে আমেরিকা নিজে সুপারপাউয়ার সাজার জন্য বেশি কিছু থিউরী মাঝে মাঝে ছড়িয়ে দেয়। যেমন কিছু দিন আগে ওরাই একটা গুজব ছড়িয়ে দিলো, জাপানের সুনামী ও নেপালের ভূমিকম্পটি আসলে আমেরিকাই ঘটিয়েছে। তারা নাকি হার্প নামক এক প্রযুক্তি দিয়ে সুনামী-ভূমিকম্প ঘটাচ্ছে। পুরোটাই ভুয়া কথা।
উদ্দেশ্য আমেরিকাকে অতিপ্রাকৃত কিছু মনে করানো, স্রষ্টার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। বিষয়টি অনেকটা এলাকার মস্তানের মত। এলাকার মস্তান, সারা দিন শুধু থ্রেট দেয়, সবাইবে ভয় দেখায়, পাবলিকের মনের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে রাখাটাই তার কাজ।
শুধু ভীতি সৃষ্টি করা হয়, পরিকল্পনা করার ব্যাপারেও সম্রাজ্যবাদীরা ছক একে দেয়। আমাদের শিক্ষা সিলেবাসে এমনভাবে পড়ানো হয়, যেন একজন ছাত্র কখনই তাদের চিন্তার বাইরে চিন্তা না করতে পারে, মিডিয়ায় সব কিছু এমনভাবে দেখানো হয় যেন একজন মানুষ কখনই তাদের সীমার বাইরে গিয়ে ভাবতে না করতে পারে। এরকম অনেক কিছু আছে। যেমন ধরুন-
১) তারা প্রচার করছে, জলবায়ুর অবস্থা খুব খারাপ। দরিদ্র দেশগুলো সামনে কঠিন অবস্থায় পড়বে। উদ্দেশ্য ভয় দেখানো। অথচ তাদের কথিত উন্নত দেশগুলোতে প্রাাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণ বেশি।
২) আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো খুব দরিদ্র, অনুন্নত। অথচ বাস্তব হচ্ছে, ঐ এলাকাগুলো প্রাকৃতি সম্পদে পরিপূর্ণ, কিন্তু সম্রাজ্যবাদীরা সেগুলো দখল করে ঐ লোকগুলোকে বল প্রয়োগ করে নিম্ন করে রেখেছে।
৩) প্রচার করা হচ্ছে, জনসংখ্যা একটি বড় সমস্যা। এই বলে মুসলিমদের দেশের জনসংখ্যা হ্রাস করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মুসলিম দেশগুলোতে ম্যালথাসের থিউরী পড়ানো হচ্ছে। অথচ তাদের দেশেই বলা হচ্ছে ম্যালথাসের থিউরী ভুল (http://www.economist.com/node/11374623)।
৪) বলা হচ্ছে ওজন স্তর ফুটো হয়ে গেছে। পৃথিবীতে তাপমাত্রা বাড়ছে, আলট্রাভায়েলেট রে ঢুকছে। শিক্ষা সিলেবাসেও সেই থিউরী প্রবেশ করানো হয়েছে। অথচ ওজন স্তর ফুটো তত্ত্ব পুরোটাই এক ভুল থিউরী (http://goo.gl/jlAeRk)
বাংলাদেশে অনেক মানুষ তো এখনও বিশ্বাস করে- “বাংলাদেশকে আমেরিকা খাদ্য দেয়। আমেরিকা যদি খাদ্য বন্ধ করে দেয়, তবে বাংলাদেশের মানুষ না খেতে পেয়ে মরে য়াবে।” এটাকেই বলে চিন্তার দাসত্ব। বর্তমানে কথিত সুপার পাউয়াররা এই কাজটি সফলভাবে করেছে। কথায় বলে- বনের বাঘের খায় না, মনের বাঘে খায়। কথিত সুপার পাউয়ারদের বানানো সেই মনের বাঘই আমাদের খেয়ে ফেলেছে। এখন সেই মনের বাঘের খাচা থেকে বের হয়ে আসলেই উন্নত হওয়া সম্ভব, অন্যথায় নয়।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s