ক্রিকেটার বিকাশ চন্দ্র দাসের ইসলাম গ্রহন!

ছবিতে যাকে দেখছেন, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রথম হিন্দু ক্রিকেটার ‘বিকাশ রঞ্জন দাস’। ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে একাদশে ছিলেন এ ফাস্ট বোলার। কিশোরগঞ্জ জেলার এ ক্রিকেটার এক সময় ইনজুরির কারণে ক্রিকেট থেকে ছিটকে পড়েন। তবে এ ক্রিকেটারের জীবনে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে তার ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ। তার বর্তমান নাম মাহমুদুল হাসান রানা। অনেকেই দাবি করে,  একটা মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে নাকি তিনি ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই গুজবকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতক করা বিকাশ রঞ্জন দাস তথা মাহমুদুল হাসান রানা। আসুন পুরো ঘটনা তার নিজ মুখেই শুনি:

image

“২০০৪ সালে জীবনের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যেতে লাগল। ধর্মান্তরিত হওয়াকে মেনে নিতে পারছিল না একটি মহল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে পালিয়ে বেচেছিলাম। ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নিয়েছি অনেক আগেই। ২০০৪ সালে অফিসিয়ালি সবকিছু হয়। দিনকালে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম এফিডেভিটের জন্য। মনে করেছিলাম কেউ জানতে পারবে না। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দেখলাম হলের ছেলেরা জেনে গেছে। পাশের রুমের দাদা খবর দেন, হামলা হবে আমার ওপর। হল ছেড়ে দিই। তখন লিপু ভাই (গাজী আশরাফ) সাহায্য করেছেন আবাহনী ক্লাবে থাকার ব্যবস্থা করে। সে সময় খবর বেরিয়েছিল, প্রণয়ঘটিত কারণে ধর্মান্তরিত বিকাশ রঞ্জন। এই সেদিনও তার বাবা-মা বিশ্বাস করতেন, ওটাই ধর্মান্তরিতের একমাত্র কারণ। কিন্তু না, আমি ছোটবেলা থেকেই ইসলাম ধর্মের অনুরাগী। বই পড়ে এই ধর্ম সম্পর্কে জেনেছি। ছোটবেলায় রোজাও রাখতাম। অস্ট্রেলিয়াতে কমনওয়েলথ ব্যাংক হাইপারফরম্যান্স ট্রেনিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে রাজিন সালেহকে দেখতাম নিয়মিত নামাজ পড়ে। খুব ভালো লাগত আমার কাছে। ওকে একদিন বললাম, আমার তো নামাজ পড়তে ভালো লাগে, আমাকে শেখাও। রাজিন বলে, তুমি যদি পালন না কর তাহলে শিখে লাভ কী?
আমি উত্তরে বলেছিলাম, যদি দেখি ভালো লাগার যৌক্তিক কারণ রয়েছে তাহলে গ্রহণ করব। দেশে ফিরে বুয়েটের মসজিদে লুকিয়ে নামাজ পড়তাম। এরকম ছয়-সাত মাস চলতে থাকল। হঠাৎ মনে হলো, এটার জন্য কেন লুকোচুরি করব। একটা বিশ্বাস থেকে এটা করছি। যশোরে খেলতে গিয়ে বকুলতলা মসজিদে নামাজ পড়তে যাই। মুফতি আবদুর রশিদ ছিলেন ইমাম। তাকে বলি, আমি মুসলমান হতে চাই। উনি আমাকে কিছু প্রশ্ন করেন। কেন মুসলমান হতে চাই। কোনো মেয়ের জন্য কিনা। যখন নিশ্চিত হলেন বিশ্বাস থেকেই হতে চাই, তখন তিনি রাজি হলেন। ওই মসজিদে যারা নামাজ পড়েন তাদের তিনি বললেন, আমাদের এখানে একজন ইসলাম গ্রহণ করবে। সবাই যেন থাকেন। মুরব্বি যারা ছিলেন সবাই জড়িয়ে ধরেছিলেন সেদিন। এটা তো বিয়ের অনেক আগের ঘটনা। আসলে আমার স্ত্রীর জন্য এটা করিনি। বিশ্বাস থেকে করেছি।” যেদিন বাবা ছেলের ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা জেনেছিলেন, সেদিন একমাত্র ছেলেকে অনুরোধ করেছিলেন সরে আসার জন্য। কিন্তু সরে আসেননি মাহমুদুল।
বর্তমানে মাহমুদুল হাসান রানা চাকরি করছেন ইস্টার্ন ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায়। তাঁর জীবনসঙ্গিনীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, দুজনের সংসারে একমাত্র অতিথির বয়স দেড় বছর, নাম আয়ান। ছোট্ট সুখের সংসার বেঁধেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকে।

সূত্রঃ
archive.prothom-alo.com/detail/date/2012-11-11/news/304570

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s